মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিটিং এর সেরা ৫টি সফটওয়্যার

এখনকার দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিতি পেতে ভালো ভিডিওর কোনো বিকল্প নেই। দামী ক্যামেরা বা পিসি নেই বলে বসে থাকার দিন এখন শেষ। আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন আর মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিটিং এর সেরা ৫টি সফটওয়্যার ব্যবহার করে আপনিও প্রফেশনাল কাজ করতে পারেন। চলুন সরাসরি দেখে নিই কোন অ্যাপগুলো ব্যবহার করলে আপনার ভিডিওর কোয়ালিটি একদম অন্য লেভেলে চলে যাবে।

১. ক্যাপকাট (CapCut)

বর্তমানে শর্ট ভিডিও বা রিলস বানানোর জন্য ক্যাপকাট এর কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে। বাইটড্যান্সের তৈরি এই অ্যাপটি সারা বিশ্বে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে কারণ এর অবিশ্বাস্য সব ফিচার। এতে এমন কিছু এআই (AI) ইফেক্ট এবং টেমপ্লেট রয়েছে যা আপনার সাধারণ ভিডিওকেও প্রফেশনাল লুক দিতে সক্ষম। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এর অটো-ক্যাপশন ফিচার, যা আপনার ভিডিওর কথা বুঝে নিজে থেকেই টেক্সট লিখে দেয়।

ক্যাপকাটে কাজ করা খুবই সহজ এবং এর ইউজার ইন্টারফেস অনেক বেশি ইউজার ফ্রেন্ডলি। আপনি খুব সহজেই কি-ফ্রেম অ্যানিমেশন ব্যবহার করে ভিডিওর এলিমেন্টগুলো মুভ করতে পারবেন। এর বিল্ট-ইন মিউজিক লাইব্রেরি এবং সাউন্ড ইফেক্ট আপনার ভিডিওর মানকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। যারা দ্রুত ট্রেন্ডি ভিডিও বানাতে চান, তাদের জন্য ক্যাপকাট সেরা সমাধান।

২. ভিএন ভিডিও এডিটর (VN Video Editor)

যারা কোনো ওয়াটারমার্ক বা লোগো ছাড়াই ফ্রিতে প্রফেশনাল এডিটিং করতে চান, তাদের জন্য ভিএন (VN) প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত। এই অ্যাপটি পিসি বা ল্যাপটপের এডিটিং সফটওয়্যারের মতো মাল্টি-লেয়ার টাইমলাইন সুবিধা দেয়। এতে আপনি খুব নিখুঁতভাবে বিট মিলিয়ে ভিডিও কাটতে পারবেন এবং পছন্দমতো মিউজিক অ্যাড করতে পারবেন। এর কালার ফিল্টার এবং স্পিড র‍্যাম্পিং ফিচারগুলো ভিডিওতে সিনেমাটিক ভাইব নিয়ে আসে।

ভিএন-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি ব্যবহার করতে কোনো সাবস্ক্রিপশন ফি বা টাকা দিতে হয় না। এটি ৪কে ভিডিও এবং ৬০ এফপিএস সাপোর্ট করে, যা ভিডিওর শার্পনেস বজায় রাখে। আপনি চাইলে নিজের তৈরি করা এডিটিং স্টাইল বা প্রিসেট অন্যদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। যারা ফ্রিল্যান্সিং বা সিরিয়াস ভিডিও মেকিং শিখতে চান, তাদের জন্য ভিএন শেখা খুবই জরুরি।

৩. কাইনমাস্টার (KineMaster)

মোবাইল ভিডিও এডিটিং এর জগতে কাইনমাস্টার হলো সবচেয়ে পুরোনো এবং বিশ্বস্ত একটি নাম। এতে আপনি কম্পিউটার সফটওয়্যারের মতো লেয়ার সিস্টেম এবং ক্রোমা কি (Chroma Key) বা গ্রিন স্ক্রিন রিমুভ করার সুবিধা পাবেন। প্রফেশনাল ইউটিউবাররা দীর্ঘ সময় ধরে এই অ্যাপটি ব্যবহার করে আসছেন কারণ এর নিখুঁত এডিটিং টুলস। এর অ্যাসেট স্টোর থেকে আপনি প্রচুর পরিমাণে ওভারলে, স্টিকার এবং ফন্ট ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারেন।

কাইনমাস্টার দিয়ে ভয়েস ওভার দেওয়া বা অডিও মিক্সিং করা অনেক বেশি সুবিধাজনক। যদিও এর ফ্রি ভার্সনে একটি ওয়াটারমার্ক থাকে, তবে পেইড ভার্সনটি নিলে আপনি আনলিমিটেড রিসোর্স ব্যবহার করতে পারবেন। এটি ল্যান্ডস্কেপ মোডে কাজ করতে সুবিধা দেয়, যা পিসি এডিটিং এর অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়। আপনি যদি প্রফেশনাল ইন্টারভিউ বা ডকুমেন্টারি টাইপ ভিডিও বানাতে চান, তবে কাইনমাস্টার আপনার সেরা সঙ্গী।

৪. ইনশট (InShot)

আপনি যদি খুব দ্রুত ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের জন্য সিম্পল এডিটিং করতে চান, তবে ইনশট (InShot) আপনার জন্য পারফেক্ট। এই অ্যাপটি ডিজাইন করা হয়েছে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে যারা খুব বেশি টেকনিক্যাল জটিলতায় যেতে চান না। এতে ভিডিওর রেশিও বা সাইজ পরিবর্তন করা পানির মতো সহজ। মাত্র কয়েক ক্লিকেই আপনি ভিডিওতে টেক্সট, ইমোজি এবং ট্রানজিশন যোগ করতে পারবেন।

ইনশটের আরেকটি বড় দিক হলো এর ফটো এডিটিং এবং কোলাজ মেকিং ফিচার। একই অ্যাপে ভিডিও এবং ছবি এডিট করার সুবিধা থাকায় আপনার ফোনের স্টোরেজ বাঁচে। যদিও এতে এডভান্সড কি-ফ্রেমের কাজ একটু সীমিত, তবুও সাধারণ ভ্লগ বা মেম তৈরির জন্য এটি অসাধারণ। যারা নতুন এডিটিং শুরু করছেন, তারা ইনশট দিয়ে হাতেখড়ি দিতে পারেন।

৫. এডোবি প্রিমিয়ার রাশ (Adobe Premiere Rush)

অ্যাডোবি নামটির সাথেই প্রফেশনালিজম জড়িয়ে আছে এবং তাদের এই মোবাইল অ্যাপটিও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রিমিয়ার রাশ মূলত তাদের বিখ্যাত পিসি সফটওয়্যার ‘প্রিমিয়ার প্রো’-এর একটি মিনি ভার্সন। এটি ক্লাউড সিঙ্কিং সাপোর্ট করে, অর্থাৎ আপনি ফোনে কাজ শুরু করে পরে পিসিতে সেটা শেষ করতে পারবেন। এর কালার গ্রেডিং টুলস এবং অডিও ব্যালেন্সিং ফিচারগুলো অত্যন্ত উন্নত মানের।

এই অ্যাপটি মূলত তাদের জন্য যারা কোয়ালিটির ব্যাপারে কোনো কম্প্রোমাইজ করতে চান না। এতে আপনি একই সাথে চারটি ভিডিও ট্র্যাক এবং তিনটি অডিও ট্র্যাক নিয়ে কাজ করতে পারবেন। যদিও এটি ব্যবহার করতে একটু ভালো কনফিগারেশনের ফোন লাগে, তবুও এর আউটপুট এক কথায় চমৎকার। আপনি যদি আন্তর্জাতিক মানের সিনেমাটিক ভ্লগ বানাতে চান, তবে এই অ্যাপটি ট্রাই করে দেখতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ চাকরিজীবনে বেতন বড় নাকি সম্মান? জরিপে উঠে এল চমকপ্রদ তথ্য

ভিডিও এডিটিং কেবল একটি কাজ নয়, এটি নিজের ভাবনাকে ফুটিয়ে তোলার একটি শৈল্পিক মাধ্যম। আপনার কাছে দামী ক্যামেরা নেই বলে আক্ষেপ না করে হাতের ফোনটি দিয়েই শুরু করে দিন। সঠিক অ্যাপটি বেছে নিয়ে নিয়মিত কাজ করলে আপনিও একদিন বড় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হতে পারবেন। পরিশ্রম আর মেধা কাজে লাগালে এই সেক্টরে আপনার সফল হওয়া কেউ আটকাতে পারবে না।

Leave a Comment