সর্বশেষ হালনাগাদ: ২ নভেম্বর ২০২৬। এই লেখার তথ্য ১৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে।
সংক্ষেপে যা জানা দরকার
- অনলাইনে অনেক সাইট “১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত” বলে লিখছে। কিন্তু আমরা যেসব সংবাদ প্রতিবেদন যাচাই করেছি, সেখানে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনার কথাই আছে। ১৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ৯ম নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতিই চূড়ান্ত হয়নি।
- এনটিআরসিএ “নিবন্ধন সনদ” পদ্ধতি থেকে সরে এসে প্রবেশ পর্যায়ে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন নাম: ৯ম এনটিআরসিএ শিক্ষক (প্রবেশ পর্যায়) নিয়োগ পরীক্ষা।
- বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে এনটিআরসিএ ৭৭,৭৯৯টি শূন্য পদের তথ্য পেয়েছে।
- প্রাথমিক পরিকল্পনা: পরীক্ষা হবে তিন ধাপে: এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক।
১৯তম নিবন্ধন কেন হচ্ছে না বলা হচ্ছে
এনটিআরসিএর সর্বশেষ নিবন্ধন পরীক্ষা (১৮তম) হয়েছিল কয়েক বছর আগে। ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী সংস্থাটি “নিবন্ধন” শব্দ থেকে সরে এসে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করে সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দিতে চাইছে। তাই ১৯তম নিবন্ধনের জায়গায় ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোচনা চলছে। প্রথম আলোর জুন ২০২৬-এর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, প্রথমবারের মতো সনদের পরিবর্তে সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
১৪ অক্টোবর ২০২৬ ভোরের কাগজ ও যুগান্তরের প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রায় তিন বছর হতে চললেও নতুন শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যায়নি। সংস্থাটি একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি, আর ১৯তম নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তিতেও বিলম্বের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
৯ম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: এখন পর্যন্ত যা ঠিক হয়েছে
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| শূন্য পদের তথ্য | ৭৭,৭৯৯টি (মে ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী) |
| সিলেবাস | শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে (১৪ অক্টোবর ২০২৬) |
| পরীক্ষার ধাপ | প্রাথমিকভাবে তিন ধাপ: এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি |
| চূড়ান্তকরণ কে করবে | এনটিআরসিএর নির্বাহী বোর্ড |
| বিজ্ঞপ্তি | এখনো প্রকাশের নিশ্চিত তথ্য পাইনি |
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গেজেটে এমসিকিউ ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাইয়ের কথা ছিল। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী বর্তমান সরকার আগের পদ্ধতিতে ফিরে এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক এই তিন ধাপে যেতে চায়। প্রস্তাবিত পরীক্ষার ধরন পরে বদলেও যেতে পারে।
“বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত” খবরে সতর্ক থাকুন
- কিছু চাকরির সাইট ও ইউটিউব ভিডিও ফি, পরীক্ষার নম্বর ও আবেদনের তারিখসহ “১৯তম সার্কুলার” প্রকাশিত বলে দাবি করছে। এগুলোর অনেকগুলো এনটিআরসিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের নোটিশ নয়।
- আবেদনের আগে সবসময় ntrca.gov.bd থেকে নোটিশ মিলিয়ে নিন।
- ভুয়া লিংকে ফি বা ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।
এখন প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন
নিচের পরামর্শগুলো সংবাদের তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের বিশ্লেষণ, এনটিআরসিএর কোনো নির্দেশনা নয়:
- নিজের বিষয়ের মৌলিক প্রস্তুতি আগে সারুন। যেকোনো ধাপে নিজের বিষয়ের জ্ঞানই কাজে লাগবে।
- লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতিও রাখুন। তিন ধাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় শুধু এমসিকিউয়ের ওপর নির্ভর না করা ভালো।
- অনুমোদিত সিলেবাস প্রকাশের অপেক্ষা করুন। সিলেবাস অনুমোদন হয়েছে, কিন্তু অফিসিয়ালি প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সাইটের সিলেবাস চূড়ান্ত ধরবেন না।
- কাগজপত্র আগে তৈরি রাখুন। শিক্ষাগত সনদ, জন্মসনদ বা এসএসসি সনদ, এনআইডি ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখুন।
- বয়সের হিসাব রাখুন। ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রথমবারের মতো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকে বয়স গণনার কথা ভাবা হচ্ছিল। এটি চূড়ান্ত কি না নিশ্চিত নই, তাই বিজ্ঞপ্তি এলে নিয়ম দেখে নিন।
পূর্ববর্তী বিজ্ঞপ্তির প্রক্রিয়া কেমন ছিল জানতে দেখুন এনটিআরসিএ ৭ম বিশেষ বিজ্ঞপ্তি লেখাটি।
তথ্যের সূত্র
- যুগান্তর ও ভোরের কাগজ: ৯ম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কোন পদ্ধতিতে, জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় (১৪ অক্টোবর ২০২৬)
- দৈনিক শিক্ষা: এনটিআরসিএর ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি হতে পারে অক্টোবরে (সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- ডেইলি ক্যাম্পাস: ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল এনটিআরসিএ, ১৯তম নিবন্ধন নয় আসছে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং দুই কারণে আটকা ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
- প্রথম আলো: এনটিআরসিএতে নিয়োগজট (জুন ২০২৬)
- এমজামিন: আগে বদলি পরে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
- বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ: ntrca.gov.bd
এই লেখার তথ্য সংবাদ প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত। পরিস্থিতি দ্রুত বদলায়, তাই আবেদনের আগে অবশ্যই এনটিআরসিএর অফিসিয়াল নোটিশ দেখে নিন।






1 thought on “১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন নয়, ৯ম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: সর্বশেষ অবস্থা ও প্রস্তুতি (২০২৬)”