সর্বশেষ হালনাগাদ: ২ নভেম্বর ২০২৬। তথ্যের সূত্র লেখার শেষে দেওয়া আছে।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য “জিরো টলারেন্স” নীতি ঘোষণা করে। এই লেখায় সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী জানানো হয়েছে, যাচাই কীভাবে চলছে, কাদের কী করতে হয় এবং জাল সনদ ধরা পড়লে কী ঘটে।
সংক্ষেপে যা জানা দরকার
- ১২ জানুয়ারি ২০২৬ সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে এনটিআরসিএ।
- পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) প্রথমে গাজীপুর, নরসিংদী ও ভোলা জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তথ্য যাচাই করার কথা বলা হয়।
- পরে ধাপে ধাপে ৬৪ জেলার ৩৬ হাজারের বেশি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সনদ যাচাইয়ের পরিকল্পনা আছে।
- যাচাইয়ের জন্য শিক্ষকের নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি প্রয়োজন হয়।
যাচাই কীভাবে হয়
সংবাদ প্রতিবেদনে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় যাচাই হয় এনটিআরসিএর আনুষ্ঠানিক রেকর্ডের সঙ্গে সনদ মিলিয়ে। সাধারণ মানুষ নিজে নিজে সনদ যাচাই করতে পারেন, এমন একটি সরাসরি অনলাইন টুলের কথা আমরা কোনো নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে পাইনি। তাই কেবল সনদের চেহারা দেখে আসল-নকল বোঝার চেষ্টা করা ভুল হবে। কর্তৃপক্ষের রেকর্ডই চূড়ান্ত প্রমাণ।
যাচাইয়ে সাধারণত যা মিলিয়ে দেখা হয়
| বিষয় | কী মেলানো হয় |
|---|---|
| প্রার্থীর নাম ও পিতা-মাতার নাম | সনদ ও এনটিআরসিএর রেকর্ডে একই কি না |
| রোল নম্বর | সংরক্ষিত ফলাফলে এই রোল নম্বর এই প্রার্থীর কি না |
| নিবন্ধন পরীক্ষার ক্রম ও সন | যেমন ৩য় বা ১৮তম নিবন্ধন পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট বছর |
| বিষয় ও প্রাপ্ত ফল | সংরক্ষিত ফলাফলের সঙ্গে মিল |
| ছবি | রেকর্ডে থাকা ছবির সঙ্গে মিল |
প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের করণীয়
- শিক্ষক: নিজের নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি, রোল নম্বর, পরীক্ষার সন ও বিষয়ের তথ্য সহজে হাতের কাছে রাখুন।
- প্রতিষ্ঠানপ্রধান: এনটিআরসিএ বা শিক্ষা অধিদপ্তরের চাওয়া নির্দিষ্ট ছকে ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের সত্যায়িত কপি পাঠান। কোন কাগজ লাগবে তা সর্বশেষ নির্দেশনা থেকে নিশ্চিত হোন।
- নতুন প্রার্থী: আবেদনের সময় সনদের তথ্য হুবহু সঠিকভাবে লিখুন। ভুল বা অসত্য তথ্য দিলে সুপারিশ বাতিল হতে পারে (বিস্তারিত দেখুন আমাদের এনটিআরসিএ ৭ম বিশেষ বিজ্ঞপ্তি লেখায়)।
জাল সনদ ধরা পড়লে কী হয়
২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, একটি স্কুলের এক শিক্ষকের ২০০৭ সালের তৃতীয় নিবন্ধন পরীক্ষার সনদ যাচাইয়ে জাল বলে প্রমাণিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর এমপিও বাতিলসহ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তাই আমরা এখানে কোনো নাম বা চূড়ান্ত রায়ের কথা বলছি না।
এর আগে ২০২৪ সালের মার্চে এনটিআরসিএর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেছিলেন, জাল নিবন্ধনধারী আছেন এবং তাঁদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তখন তিন জনকে ধরে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
সনদ জাল প্রমাণিত হলে সাধারণত এমপিও বাতিল ও আইনি পদক্ষেপের ঝুঁকি থাকে। চূড়ান্ত ব্যবস্থা নির্ভর করে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।
সনদ নিয়ে সন্দেহ হলে কী করবেন
- কাউকে প্রকাশ্যে জাল সনদধারী বলবেন না। যাচাই ছাড়া অভিযোগ আইনি ঝামেলা তৈরি করতে পারে।
- প্রমাণসহ (সনদের কপি, রোল নম্বর, প্রতিষ্ঠানের নাম) এনটিআরসিএর অফিসিয়াল যোগাযোগ মাধ্যমে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান।
- প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস বা দুর্নীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ করা যায়।
তথ্যের সূত্র
- বাসস: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের উদ্যোগ (১২ জানুয়ারি ২০২৬)
- খবর সংযোগ: জাল সনদে শিক্ষকতা রুখতে নজরদারিতে এমপিওভুক্তরা (জানুয়ারি ২০২৬)
- দেশ রূপান্তর: জাল সনদে শিক্ষকতা, এমপিও বাতিলসহ মামলার সুপারিশ (১৪ মার্চ ২০২৬)
- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর: এনটিআরসিএ চেয়ারম্যানের বক্তব্য (২০ মার্চ ২০২৪)
- বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ: ntrca.gov.bd
এই লেখার তথ্য সংবাদ প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত। সনদ যাচাইয়ের নির্দিষ্ট নিয়ম ও ফরম সর্বশেষ জানতে এনটিআরসিএর অফিসিয়াল নোটিশ দেখুন।





