সর্বশেষ হালনাগাদ: ২ নভেম্বর ২০২৬। তথ্যের সূত্র লেখার শেষে দেওয়া আছে।
সংক্ষেপে নিয়ম
বাংলাদেশের অনেক সরকারি ও আধা-সরকারি নিয়োগে আবেদন হয় টেলিটকের অনলাইন পোর্টালে। ফরম পূরণের পর অনধিক ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আবেদন ফি জমা দিতে হয় টেলিটকের প্রিপেইড মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএস পাঠিয়ে। ফি জমা না হলে আবেদন সম্পূর্ণ গণ্য হয় না।
ফি কত লাগে (সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তির উদাহরণ)
পরীক্ষার ফির সঙ্গে টেলিটকের সার্ভিস চার্জ যোগ হয়। বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেখা গেছে:
| প্রার্থীর ধরন | পরীক্ষার ফি | সার্ভিস চার্জ | মোট |
|---|---|---|---|
| সাধারণ প্রার্থী | ১০০ টাকা | ১২ টাকা | ১১২ টাকা |
| ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ | ৫০ টাকা | ৬ টাকা | ৫৬ টাকা |
তবে এটি শুধু উদাহরণ। বিসিএসে আবেদন ফি ২০০ টাকা এবং কোনো নিয়োগে ফি বেশি, কোথাও কম। যেমন তিতাস গ্যাসের একটি খণ্ডকালীন পদে ২০২৫ সালে সার্ভিস চার্জসহ ২২৩ টাকা ছিল। আপনার আবেদনের নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে ফি দেখে নিন।
ফি জমার সাধারণ ধাপ
- অনলাইনে ফরম পূরণ ও সাবমিট করুন। সাবমিটের পর একটি ইউজার আইডি (User ID) পাবেন।
- ইউজার আইডি সংরক্ষণ করুন। এটি দিয়ে পরে প্রবেশপত্র (Admit Card) ডাউনলোড করতে হয়।
- ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিজ্ঞপ্তিতে লেখা নির্দিষ্ট এসএমএস কমান্ড টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে পাঠান। কমান্ডের ফরম্যাট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আলাদা হয়, তাই নিজে কোনো কমান্ড অনুমান করবেন না।
- সফল হলে একটি নিশ্চিতকরণ এসএমএস আসে, যাতে পাসওয়ার্ড বা পরবর্তী নির্দেশনা থাকে।
মনে রাখবেন: ফি টেলিটক নম্বর থেকেই দিতে হয়, অন্য অপারেটর থেকে নয়। ফরম সাবমিট করার পর অনলাইনে তথ্য সংশোধনের সুযোগ সাধারণত থাকে না, তাই সাবমিটের আগে প্রিভিউ ভালো করে দেখে নিন।
নিশ্চিতকরণ এসএমএস না এলে করণীয়
এই ধাপগুলো ক্রমানুসারে দেখুন:
- সময় পার হয়েছে কি না দেখুন। ৭২ ঘণ্টার সীমা ফরম পূরণের সময় থেকে গোনা হয়। সময় পেরিয়ে গেলে ফি জমা নেওয়া হয় না এবং সংশ্লিষ্ট ইউজার আইডির আবেদন অকার্যকর হতে পারে।
- নম্বর ঠিক আছে কি না মিলিয়ে নিন। আপনি কি টেলিটকের প্রিপেইড নম্বর থেকে এসএমএস পাঠিয়েছেন? পোস্টপেইড বা অন্য অপারেটরের নম্বর থেকে পাঠালে কাজ হবে না।
- ব্যালেন্স দেখুন। সার্ভিস চার্জসহ যে মোট ফি লাগে, অ্যাকাউন্টে অন্তত তত টাকা থাকতে হবে।
- এসএমএস কমান্ড আবার মিলিয়ে নিন। বিজ্ঞপ্তির কমান্ডের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে দেখুন। ইউজার আইডিতে অক্ষর ও সংখ্যা ভুল হলে এসএমএস কার্যকর হয় না।
- কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার চেক করুন। নেটওয়ার্কের কারণে নিশ্চিতকরণ আসতে দেরি হতে পারে। ফি কেটে নেওয়া হয়েছে কি না ব্যালেন্স দেখে বুঝে নিন।
- টেলিটকের সহায়তায় যোগাযোগ করুন। বিজ্ঞপ্তিতে অনলাইন আবেদনে সমস্যা হলে টেলিটক নম্বর থেকে ১২১-এ কল করতে বলা হয়। অনেক বিজ্ঞপ্তিতে ই-মেইল ঠিকানাও দেওয়া থাকে, যেমন
alljobs.query@teletalk.com.bdবাvas.query@teletalk.com.bd। কোন ঠিকানা প্রযোজ্য, তা আপনার বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন।
সতর্কতা: নিশ্চিতকরণ না এলে বারবার এসএমএস পাঠিয়ে ফি দ্বিতীয়বার কাটিয়ে ফেলবেন না। আগে ব্যালেন্স দেখে এবং টেলিটকের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হোন।
ইউজার আইডি বা পাসওয়ার্ড হারালে
ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারের নিয়ম সংশ্লিষ্ট টেলিটক পোর্টালেই দেওয়া থাকে। ফরম পূরণের সময় আইডি লিখে রাখুন বা স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন।
তথ্যের সূত্র
- যুগান্তর: বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আবেদন ফি ও ফি জমার সময় (এপ্রিল ২০২৫ ও মার্চ ২০২৫)
- যুগান্তর: ৪৭তম বিসিএসের আবেদন ফি ২০০ টাকা ও অনগ্রসর প্রার্থীদের ৫০ টাকা
- শিক্ষক বাতায়ন (teachers.gov.bd): টেলিটক পোর্টালে আবেদন ও ফি জমার সতর্কতা
- টেলিটক: teletalk.com.bd
এই লেখার তথ্য প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও সংবাদ থেকে সংকলিত। ফি, এসএমএস কমান্ড ও সহায়তা ঠিকানা বিজ্ঞপ্তিভেদে বদলায়, তাই আপনার নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তিটিই চূড়ান্ত সূত্র হিসেবে দেখুন।






3 thoughts on “টেলিটকে সরকারি চাকরির আবেদন ফি জমার নিয়ম ও এসএমএস না এলে করণীয়”