শাওমি ব্র্যান্ড প্রতি বছর তাদের টি সিরিজের নতুন স্মার্টফোন বাজারে নিয়ে আসে। ২০২৬ সালে এই সিরিজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফোন হতে যাচ্ছে শাওমি ১৭টি প্রো। বাংলাদেশের স্মার্টফোনপ্রেমীরা এখন থেকেই এই নতুন ফোনটি নিয়ে অনেক আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এই লেখায় আমরা Xiaomi 17T Pro Price in Bangladesh ২০২৬ – স্পেসিফিকেশন ও আনঅফিশিয়াল দাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
শাওমি ১৭টি প্রো ফোনের ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি

এই ফোনের পেছনের অংশে গ্লাস প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। এর চারপাশের ফ্রেম তৈরি হয়েছে শক্ত অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে। ফোনটি হাতে ধরলে বেশ প্রিমিয়াম অনুভূতি পাওয়া যায়। এর ওজন এবং থিকনেস হাতের গ্রিপের জন্য বেশ আরামদায়ক। ফোনটির ডান পাশে ভলিউম রকার এবং পাওয়ার বাটন দেওয়া হয়েছে। নিচের অংশে স্পিকার গ্রিল এবং টাইপ-সি পোর্ট রয়েছে। এই মডেলে কোনো ৩.৫ এমএম অডিও জ্যাক দেখা যাবে না। সিম কার্ড স্লটটি ফোনের নিচের অংশে রাখা হয়েছে। স্মার্টফোনটিতে পানি ও ধুলোবালি থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এটি আইপি৬৮ রেটিং সহ বাজারে আসতে পারে। ফলে হালকা বৃষ্টি বা পানিতে ফোনটি সহজে নষ্ট হবে না। ফোনের স্ক্রিনে গরিলা গ্লাস প্রোটেকশন দেওয়া হয়েছে।
ডিসপ্লে প্যানেল এবং ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা

ফোনটিতে বড় সাইজের একটি অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ডিসপ্লেতে ১৪৪ হার্জ রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করবে। এর ফলে স্ক্রিন স্ক্রলিং অনেক মসৃণ মনে হয়। কনটেন্ট দেখার জন্য এই ডিসপ্লে বেশ চমৎকার। এর রেজোলিউশন ১.৫কে মানের হতে পারে। কড়া রোদেও স্ক্রিনের লেখা পরিষ্কার দেখা যায়। এর পিক ব্রাইটনেস অনেক বেশি দেওয়া হয়েছে। সরু বেজেলের কারণে ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা অনেক ভালো হয়। মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের জন্য ডিসপ্লেটি বেশ উপযোগী। এতে ডলবি ভিশন সাপোর্ট যুক্ত করা হয়েছে। রঙের সঠিকতা ধরে রাখতে এই প্যানেল সাহায্য করে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে হাই ডেফিনিশন ভিডিও সহজে দেখা যাবে।
প্রসেসর এবং পারফরম্যান্স টেস্ট
এই মডেলে মিডিয়াটেকের একদম লেটেস্ট চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ৪ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারে তৈরি একটি প্রসেসর। দৈনন্দিন সব কাজ এতে খুব দ্রুত করা সম্ভব। অ্যাপ ওপেন এবং ক্লোজ হতে সময় লাগে না। ভারী গেম খেলার জন্য এই প্রসেসর বেশ কার্যকর। পাবজি বা ফ্রি ফায়ারের মতো গেম উচ্চ গ্রাফিক্সে খেলা যায়। দীর্ঘ সময় গেম খেললেও ফ্রেম ড্রপ হয় না। ফোনটি সহজে অতিরিক্ত গরম হয় না। র্যাম ম্যানেজমেন্টের জন্য এতে ১২ জিবি র্যাম দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ হিসেবে ২৫৬ জিবি মেমোরি থাকছে। মেমোরি টাইপ হিসেবে ইউএফএস ৪.০ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ডেটা ট্রান্সফার স্পিড অনেক বাড়িয়ে দেয়।
ক্যামেরা সেটআপ এবং ইমেজ কোয়ালিটি
ফোনের পেছনে তিনটি ক্যামেরা লেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। মূল ক্যামেরাটি ৫০ মেগাপিক্সেলের একটি সেন্সর। এতে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন বা ওআইএস প্রযুক্তি থাকছে। এর ফলে চলন্ত অবস্থায় স্থির ছবি তোলা যায়। দিনের আলোতে এই ক্যামেরা চমৎকার ছবি তুলতে পারে। ছবির ডিটেইলিং এবং কালার বেশ নিখুঁত আসে। ডাইনামিক রেঞ্জ ব্যালেন্স করার ক্ষমতা এর অনেক ভালো। পোর্ট্রেট মোডে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার বেশ স্বাভাবিক দেখায়।
আরো পড়ুনঃ মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিটিং এর সেরা ৫টি সফটওয়্যার
দ্বিতীয় ক্যামেরাটি একটি আল্ট্রাওয়াইড লেন্স হিসেবে কাজ করে। তৃতীয় লেন্সটি দিয়ে দূরের ছবি জুম করে তোলা যায়। রাতের বেলা ছবি তোলার জন্য বিশেষ নাইট মোড রয়েছে। কম আলোতেও এই ক্যামেরা পরিষ্কার ছবি উপহার দেয়। সামনের দিকে একটি উচ্চ রেজোলিউশনের সেলফি ক্যামেরা রয়েছে। সেলফি ক্যামেরার ছবির স্কিন টোন স্বাভাবিক থাকে। এটি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য ভালো ভিডিও বানানো সম্ভব। মূল ক্যামেরা দিয়ে ফোরকে রেজোলিউশনে ভিডিও রেকর্ড করা যায়।
ব্যাটারি লাইফ এবং চার্জিং স্পিড
এই স্মার্টফোনে ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের একটি বড় ব্যাটারি রয়েছে। একবার ফুল চার্জ দিলে সারাদিন অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। সাধারণ ব্যবহারে ব্যাটারি ব্যাকআপ আরও বেশি পাওয়া সম্ভব। হেভি গেমিং করলেও দ্রুত চার্জ শেষ হয় না।ফোনটি দ্রুত চার্জ করার জন্য ১২০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার দেওয়া থাকবে। মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিটে ফোনটি ফুল চার্জ হয়ে যায়। বক্সের ভেতরেই এই শক্তিশালী চার্জারটি পেয়ে যাবেন। টাইপ-সি কেবল দিয়ে এই চার্জিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এতে কোনো তারহীন বা ওয়ারলেস চার্জিং সুবিধা থাকছে না। তবে টাইপ-সি চার্জিং স্পিড অনেক ফাস্ট হওয়ায় কোনো সমস্যা হবে না। ব্যাটারি সুরক্ষার জন্য বিশেষ চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি অতিরিক্ত চার্জ হওয়া থেকে ফোনকে রক্ষা করে।
সফটওয়্যার এবং ইউজার ইন্টারফেস
ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৬ অপারেটিং সিস্টেমের সাথে বাজারে আসবে। এর ওপর শাওমির নিজস্ব কাস্টম স্কিন ব্যবহার করা হয়েছে। এই ইন্টারফেসটি আগের চেয়ে অনেক লাইট এবং ফাস্ট। এতে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বা ব্লোটওয়্যার কম থাকবে। ফোনটিতে ৩ বছরের মেজর অ্যান্ড্রয়েড আপডেট পাওয়া যাবে। নিরাপত্তা আপডেটের সুবিধা থাকবে ৪ বছর পর্যন্ত। নতুন সব ফিচার এই সফটওয়্যারে যুক্ত করা হয়েছে। সেটিংস মেনু সাজানো হয়েছে খুব সহজভাবে।
নেটওয়ার্ক এবং কানেক্টিভিটি
এটি একটি সম্পূর্ণ ফাইভ-জি সমর্থিত স্মার্টফোন। বাংলাদেশের সব ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক এতে ভালোভাবে কাজ করবে। ডুয়াল ন্যানো সিম কার্ড ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে এই ফোনে। নেটওয়ার্ক সিগন্যাল রিসেপশন অনেক শক্তিশালী ও উন্নত। কানেক্টিভিটির জন্য ওয়াইফাই ৭ এবং ব্লুটুথ ৫.৪ রয়েছে। জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম অনেক নিখুঁতভাবে কাজ করে। ফাইল শেয়ার করার জন্য এনএফসি সুবিধাও দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের সেন্সর এই মডেলে উপস্থিত রয়েছে।
আরো পড়ুনঃ রংপুরে কৃষিতে সাফল্য, জীবিকার অনিশ্চয়তায় মানুষ
শাওমি ১৭টি প্রো সম্ভাব্য দামের তালিকা
বাংলাদেশের বাজারে এই ফোনটি অফিশিয়াল এবং আনঅফিশিয়াল উভয় ভাবেই পাওয়া যাবে। ট্যাক্স এবং শুল্কের কারণে দামের কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। নিচে সম্ভাব্য দামের একটি তালিকা দেওয়া হলো।
| ভ্যারিয়েন্ট | অফিশিয়াল দাম (সম্ভাব্য) | আনঅফিশিয়াল দাম (সম্ভাব্য) |
| ১২ জিবি র্যাম + ২৫৬ জিবি স্টোরেজ | ৮২,০০০ টাকা | ৬৫,০০০ টাকা |
| ১৬ জিবি র্যাম + ৫১২ জিবি স্টোরেজ | ৯২,০০০ টাকা | ৭৫,০০০ টাকা |
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
শাওমি ১৭টি প্রো ফোনটি কি গেম খেলার জন্য ভালো?
হ্যাঁ, এই ফোনে লেটেস্ট ফ্ল্যাগশিপ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। উচ্চ গ্রাফিক্সের গেম কোনো ল্যাগ ছাড়াই খেলা যাবে।
এর বক্সে কি চার্জার পাওয়া যাবে?
হ্যাঁ, ফোনের বক্সের সাথেই ১২০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার দেওয়া থাকবে। আলাদা করে চার্জার কেনার কোনো প্রয়োজন নেই।
ফোনটি কি অফিসিয়ালি বাংলাদেশে পাওয়া যাবে?
গ্লোবাল লঞ্চের কিছুদিন পর এটি বাংলাদেশের অফিশিয়াল শোরুমে আসতে পারে। তবে আনঅফিশিয়াল বাজারে এটি আগে পাওয়া যাবে।
এই ফোনের মূল ক্যামেরা কত মেগাপিক্সেলের?
এর পেছনের মূল ক্যামেরাটি ৫০ মেগাপিক্সেলের একটি সেন্সর। এতে ওআইএস সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।


