সর্বশেষ হালনাগাদ: ২ নভেম্বর ২০২৬। তথ্যের সূত্র লেখার শেষে দেওয়া আছে।
সংক্ষেপে উত্তর
সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী একজন নারী কর্মচারী পুরো চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ দুইবার মাতৃত্বকালীন ছুটি পান। প্রতিবারের মেয়াদ ৬ মাস বা ১৮৪ দিন। ছুটিকালীন সময়ে গড় বেতনসহ সব ভাতা পাওয়া যায়, এবং এই ছুটি আপনার অর্জিত ছুটির হিসাব থেকে কাটা হয় না।
এক নজরে নিয়ম
| বিষয় | নিয়ম |
|---|---|
| ছুটির মেয়াদ | ৬ মাস (১৮৪ দিন) |
| পূর্ণ চাকরি জীবনে কতবার | সর্বোচ্চ ২ বার |
| বেতন | পূর্ণ গড় বেতন ও ভাতা |
| অর্জিত ছুটির হিসাব | কাটা হয় না |
| আবেদন কখন থেকে করা যায় | চাকরিতে যোগদানের পরদিন থেকেই |
| প্রযোজ্য বিধি | বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস, বিধি ১৯৭ |
নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েই কি ছুটি নেওয়া যায়
হ্যাঁ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নতুন চাকরিতে যোগদানের পরদিনই একজন নারী কর্মচারী মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করতে পারেন। অস্থায়ী কর্মচারীদের জন্যও এই সুযোগ খুলে দিতে ২০১২ সালের ১ এপ্রিল জারি করা এসআরও (নম্বর ৮৪) দিয়ে বিধি ১৯৭-এর একটি নোট বিলুপ্ত করা হয়েছিল বলে সার্ভিস রুলসবিষয়ক প্রকাশনায় উল্লেখ আছে।
কীভাবে আবেদন করবেন
- আবেদন লিখুন: নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে (প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা) উদ্দেশ্য করে ছুটির আবেদন করুন।
- সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ উল্লেখ করুন: চিকিৎসকের দেওয়া সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ আবেদনে লিখুন এবং চিকিৎসকের সনদ সংযুক্ত করুন।
- ছুটি শুরুর তারিখ ঠিক করুন: ৬ মাসের ছুটি আপনার আবেদনে লেখা শুরুর তারিখ থেকে হিসাব হয়, সন্তান জন্মের তারিখ থেকে নয়। অর্থাৎ প্রসবের কিছুদিন আগে থেকে ছুটি নিলে প্রসব-পরবর্তী সময় কিছুটা কমে যায়।
- সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করুন: ঈদের ছুটি বা অন্য সরকারি ছুটির কাছাকাছি সময়ে আবেদন করলে ছুটির তারিখ গুনতে ভুল হতে পারে। হিসাবরক্ষণ শাখার সঙ্গে আগেই মিলিয়ে নিন।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ম
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বিধিমালায় নারী শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য একই ধরনের ব্যবস্থা আছে। নিয়ম অনুযায়ী:
- গর্ভবতী হওয়ার সপক্ষে ডাক্তারী সনদ জমা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ছুটি অগ্রাহ্য করতে পারেন না।
- ছুটি পাওয়া যায় ৬ মাসের।
- পুরো চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ ২ বার বেতন-ভাতাসহ এই ছুটি দেওয়া যায়।
শ্রম আইনের ছুটির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ১২০ দিন, ১৮০ দিন ও ছয় মাসের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা যায়। এর কারণ, শ্রম আইন (বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য) এবং সরকারি চাকরি বিধিমালা আলাদা। সরকারি কর্মচারী ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য উপরের নিয়ম প্রযোজ্য। বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করলে নিজের প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও শ্রম আইন দেখুন।
আবেদনের আগে যা মিলিয়ে নেবেন
- আপনি আগে কতবার মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়েছেন? দুইবারের বেশি দেওয়া হয় না।
- আপনার চাকরি স্থায়ী, অস্থায়ী নাকি চুক্তিভিত্তিক? চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ছুটির শর্ত নিয়োগপত্রে আলাদা থাকতে পারে।
- প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ পরিপত্র বা অর্থ বিভাগের নির্দেশনা আছে কি না, হিসাবরক্ষণ শাখায় জিজ্ঞেস করুন।
তথ্যের সূত্র
- বিডি সার্ভিস রুলস: শিশুর বয়স ৬ মাস হলে কি মাতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়া যায়, সরকারি বিধিমালা এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি কত দিন (২০২৬)
- শিক্ষক বাতায়ন (teachers.gov.bd): বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বিধিমালা, প্রসূতি ছুটি অংশ
- বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস, বিধি ১৯৭ ও সংশ্লিষ্ট এসআরও (১ এপ্রিল ২০১২)
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়: mopa.gov.bd
এই লেখা সার্ভিস রুলস-সংক্রান্ত প্রকাশনা থেকে সংকলিত, আইনি পরামর্শ নয়। ছুটি নেওয়ার আগে আপনার প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণ শাখা বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিন।





