সর্বশেষ হালনাগাদ: ২ নভেম্বর ২০২৬। তথ্যের সূত্র লেখার শেষে দেওয়া আছে।
সংক্ষেপে উত্তর
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৩ জুলাইয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগে ৯৩ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে এবং ৭ শতাংশ কোটায় পূরণ হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এই কাঠামো কার্যকর আছে বলে জানিয়েছেন। ২০২৬ সালের আগস্টে বিবিসি বাংলাকে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তাও একই কথা বলেছেন: ২৩ জুলাইয়ের গেজেট অনুযায়ী সব গ্রেডে ৭ শতাংশ কোটা ও ৯৩ শতাংশ মেধা, এর বাইরে অন্য কোনো কোটা নেই।
বর্তমান কোটা কাঠামো
| ক্যাটাগরি | শতাংশ |
|---|---|
| মেধাভিত্তিক নিয়োগ | ৯৩% |
| মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান | ৫% |
| ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী | ১% |
| শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ | ১% |
| মোট কোটা | ৭% |
আগে কী ছিল
২০১৮ সালের আগে মোট কোটা ছিল ৫৬ শতাংশ, বাকি ৪৪ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে:
| কোটা | আগের হার | এখন |
|---|---|---|
| মুক্তিযোদ্ধা | ৩০% | ৫% (মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও বীরাঙ্গনার সন্তান) |
| জেলা কোটা | ১০% | নেই |
| নারী কোটা | ১০% | আলাদা নারী কোটা নেই |
| ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী | ৫% | ১% |
| প্রতিবন্ধী | ১% | ১% (তৃতীয় লিঙ্গসহ) |
কীভাবে এই কাঠামো এল
- ৪ অক্টোবর ২০১৮: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করে নবম থেকে ১৩তম গ্রেডের সরাসরি নিয়োগে কোটা বাতিল করে।
- ৫ জুন ২০২৪: হাইকোর্ট ওই পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে, ফলে পুরোনো কোটা ফিরে আসার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে।
- ২১ জুলাই ২০২৪: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে রায় দেয় এবং কোটা ৭ শতাংশে নামানোর নির্দেশ দেয়।
- ২৩ জুলাই ২০২৪: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে ২০১৮ সালের পরিপত্রসহ এ-সংক্রান্ত আগের সব পরিপত্র, প্রজ্ঞাপন ও আদেশ বাতিল করা হয়।
নারী কোটা কি আছে
২০২৪ সালের প্রজ্ঞাপনের ৭ শতাংশ কোটা কাঠামোতে নারীদের জন্য আলাদা কোনো কোটা নেই। এ নিয়ে অসন্তোষও আছে। আইটিভিবিডির একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মহিলা সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের হিসাবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ১৪ লাখ ৪৩ হাজার কর্মীর মধ্যে নারী প্রায় ২৮ শতাংশ। জেলা বা বিভাগীয় অফিসের দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেডে নারীর উপস্থিতি প্রায় ৭ শতাংশ। আন্দোলনের কয়েকজন নেতা বলেছেন, নারী ও আদিবাসীদের জন্য একটি যৌক্তিক কোটা থাকা দরকার ছিল।
এই বিতর্কের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি দুই ধরনেরই আছে। বিদ্যমান আইন ও প্রজ্ঞাপনে নারীদের জন্য আলাদা কোটা না থাকলেও নারী প্রার্থীরা মেধাভিত্তিক ৯৩ শতাংশ পদে সমানভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারেন।
প্রার্থীদের জন্য যা মনে রাখা দরকার
- কোটার সুবিধা পেতে হলে বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত সনদ ও প্রমাণ জমা দিতে হয়। কোন সনদ লাগবে তা প্রতিটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে দেখুন।
- জেলা কোটার ভরসায় থাকবেন না, কারণ পিএসসির বক্তব্য অনুযায়ী এখন তা নেই।
- বিজ্ঞপ্তি, আদালতের রায় বা সরকারি সিদ্ধান্ত বদলালে কোটার হার বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি ও গেজেট দেখে নিন।
তথ্যের সূত্র
- বিবিসি বাংলা (যুগান্তর ও দৈনিক আমার বাংলাদেশে পুনঃপ্রকাশিত): সরকারি চাকরিতে এখন কোন কোটা কত শতাংশ আছে (৫ আগস্ট ২০২৬)
- আইটিভিবিডি ও প্রতিক্ষণ: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া তথ্য, ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটা (২০২৬)
- ডেইলি স্টার বাংলা: ২৩ জুলাই ২০২৪-এর কোটা প্রজ্ঞাপন
- প্রথম আলো: সরকারি চাকরিতে কোটা কবে থেকে কীভাবে আছে
- আইটিভিবিডি: সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের বর্তমান অবস্থা ও বাস্তবতা (আগস্ট ২০২৬)
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়: mopa.gov.bd
এই লেখার তথ্য সংবাদ প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত। আইনি বা আবেদনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই সরকারি প্রজ্ঞাপন বা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।





